নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে হিমবাহধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭৯ জন এবং তিব্বতে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ।
আন্তর্জাতিক রেডক্রসের (আইএফআরসি) তথ্যমতে, এই দুর্যোগে নেপালে সরাসরি প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নেপাল ও তিব্বত কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০০ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিক, যাদের বড় একটি অংশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবরের দিকে যাওয়া তীর্থযাত্রী ও পর্যটক।
বন্যা ও ভূমিধসে রাস্তাঘাট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। নেপালের সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ এবং চার হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন। ইতোমধ্যে বহু পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে হিমবাহধসের ফলে নদীগুলোর গতিপথ আটকে গিয়ে নতুন দুটি কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে হ্রদের পানি উপচে আবারও বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার, জরুরি ত্রাণ ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে ভারত, চীন ও বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের চেয়েও বড় হতে পারে, যা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন হবে।